দিনাজপুরনিউজ২৪ ডটকমের ব্লগসাইটে আপনাকে স্বাগতম!

জীবনযাপন

প্রকাশঃ ১৮ অক্টোবর, ২০১৮

জীবনযাপন

ক্রায়োস্লীপ এর মাধ্যমে মৃত মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব

সায়েন্স ফিকশন সিনেমাতে প্রায়ই দেখা যায়, একজন মানুষকে ফ্রিজিং করে কিংবা ক্রায়োস্লীপে রাখা হলো, তারপরে অনেক বছর পরে তাকে যেমন ছিলো তেমন অবস্থায় স্বাস্থ্যগত জটিলতা ও বয়সবৃদ্ধির প্রভাব ব্যাতীত জীবিত বাচিয়ে তোলা হয়।

বাস্তবেও এমনটা মাঝে মাঝে হয়। কখনো কখনো দূর্ঘটনাবশত বরফের স্ফটিকের নিচে চাপা পড়ে আবার কখনো কখনো চিকিৎসাবিহীন দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত কাউকে ভবিষ্যতের জন্য ক্রায়ো প্রিজারভেশন করে রাখা হয়, এই আশায় যদি পরবর্তীতে এই রোগের ঔষুধ বা চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়!

বিজ্ঞান কি বলে?

এই ক্রায়োপ্রিজারভেশনের অবশ্যই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে এবং এটার প্র্যাকটিসকে বলা হয় ক্রায়োনিকস। এটা এমন এক টেকনিক যেটা ব্যাবহার করা হয় পরবর্তীতে কখনো পুনুরুজ্জীবিত করতে অত্যন্ত স্বল্প তাপমাত্রায় মানুষের দেহকে প্রিজারভেশন করার কাজে। এই টেকনিকটি বর্তমান সময়ে ব্যবহার করা হচ্ছে, তবে এর পেছনের প্রযুক্তিগুলো এখনো খুবই শিশুতোষ অবস্থায় আছে।

এভাবে কাউকে সংরক্ষণ করা হলে বলা হয়, তিনি ক্রায়োনিক সাসপেনশনে আছেন। খুব জটিল রোগ মৃতদের এমন রোগীদের শরীরকে সংরক্ষণ করে রাখা হচ্ছে এই আশায় যখন তার রোগের প্রতিকারের ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হবে তখন তাদের আবার পুনরুজ্জীবিত করা যাবে।

কেন মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা? দেরি হয়ে গেলো না?

 

বর্তমানে জীবিত কারো শরীরে ক্রায়োনিক সাসপেনশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যারা এই প্রক্রিয়ায় নিজের শরীরকে সংরক্ষণ করতে চান, তাদের ক্ষেত্রে এটা প্রমাণ করতে হবে যে তারা মৃত, অন্তত পক্ষে তাদের হৃতপিন্ডের কার্যক্রম বন্ধ হতে হবে।

তাহলে যদি তারা মরেই গিয়ে থাকে, পরে তাদের কিভাবে পুনুরুজ্জীবিত করা হবে?

 

যে সকল কোম্পানি ক্রায়োপ্রিজারভেশনের সুবিধা দিচ্ছে তাদের মতে আইন অনুসারে মৃত আর সম্পূর্ণভাবে মৃত এক ব্যাপার নয়। হার্টবীট বন্ধ হয়ে যাবার পরেও ব্রেইনের কোষগুলো জীবিত থাকে এবং আরো বেশ কিছুটা সময় কর্মক্ষম থাকে। সম্পূর্ণ মৃত্যু মানে তাদের মতে ব্রেইনেরও সম্পূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া। ক্রায়নিকস এর মাধ্যমে কিছুটা সেল ফাংশান সংরক্ষণ করা যায়, যা থেকে থিওরেটিক্যালি আবার পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব।

ক্রায়োনিকস কিভাবে করা হয়?

 

হৃৎপিন্ডের কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলে ঘোষণা করা হয় মানুষটি আইনত মৃত, তারপরই দায়িত্ব নিয়ে নেয় চুক্তিবদ্ধ কোম্পানি। তাদের ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম কাজ শুরু করে দেয়। তারা শরীরটিকে স্থির অবস্থায় আনতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও রক্ত সরবারহ করতে থাকে যেন শরীরের মিনিমাল ফাংশনগুলো তখনো চালু থাকে। এরপর তারা শরীরে এন্টিকোয়াগুলেন্ট দেয় যাতে রক্তজমাট বেধে না যায় আর শরীরটিকে বরফ দিয়ে মুড়ে দেয়। তারপরে ক্রায়োনিকস ফ্যাসিলিটিতে পৌছানো মাত্র অপেক্ষারত মেডিক্যাল টিম দায়িত্ব বুঝে নেয়। তারপরেই শুরু হয় আসল ফ্রিজিং এর প্রক্রিয়া।

তারা কি শরীরটিকে তরল নাইট্রোজেনের পটে ফেলে দেয় না?

তারা করতে পারতো এটা, তবে সেক্ষেত্রে শরীরটি ফ্রোজেন হবে ঠিকই কিন্তু শরীরের সব কোষই নষ্ট হয়ে যেত এবং মারা যেত।যেহেতু কোষের বেশিরভাগ অংশই পানি, আর পানি বরফ হবার পরে এর আয়তন বেড়ে যায় তাই কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একারণে এই পানি সরিয়ে ফেলতে হয় এবং এর বদলে যোগ করা হয় ক্রায়োপ্রোটেক্ট্যান্ট (যেমন গ্লিসারল)। এ প্রক্রিয়ায় কোষগুলোকে একটা সাসপেন্ডেড অবস্থায় বাচিয়ে রাখা সম্ভব। এ প্রক্রিয়ার নাম ভিট্রিফিকেশন। ভিট্রিফিকেশনের পরে ড্রাই আইস দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা -২০২ ডিগ্রী ফারেনহাইট আসা পর্যন্ত ঠান্ডা করা হয়। এই প্রি-কুলিং এর পরই শরীরটিকে তরল নাইট্রোজেন এর ট্যাঙ্কে ছেড়ে দেয়া হয়, যার ফলে তাপমাত্রা -৩২০ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।অত্যন্ত জটিল এ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ শরীর সংরক্ষণে খরচ পড়বে দুই লক্ষ ডলার।আর সস্তায় শুধু মাত্র ব্রেন সংরক্ষনে খরচ হয় ৬০ হাজার ডলার। এটা করা হয় ভবিষ্যতের টেকনোলজি দিয়ে ক্লোন করা যাবে কিংবা বাকি শরীরটুকু রিজেনারেট করা যাবে এই আশায়।

এটা কি কাজ করে?

সমালোচকদের মতে কোম্পানিগুলো মানুষের অমরত্বের আকাংখাকে পুঁজি করেই ব্যবসা করছে কোম্পানিগুলো, বাস্তবে একটা ডেলিভারিও হবেনা। আসলেই বিজ্ঞানীরা এখনও পর্যন্ত একজনকেও জীবিত পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন নি এবং নিকটবর্তী সময়ে কাউকে জীবিত পুনরুজ্জীবিত করতে পারবেন এটা ও আশা করছেন না, তাই এ প্রযুক্তির পক্ষের অন্য যুক্তিগুলো আর ধোপে টেকেনা।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো ফিরিয়ে আনার সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া। সঠিক তাপমাত্রা ও সঠিক গতিতে যদি প্রসেসটি না চলে সেক্ষেত্রে কোষগুলোর ভেতরে আইস ক্রিস্টাল গঠিত হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

কোন মানুষকে এখনও পর্যন্ত ক্রায়োনিক সাসপেনশন থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় নি, তবে কিছু কিছু প্রানীর ক্ষেত্রে প্রায় মৃত কিংবা মৃত অবস্থা থেকেও  ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।হিমায়িত মানবভ্রুণকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে মায়ের জরায়ুতে স্থাপন করার পরে স্বাভাবিক সন্তানের জন্ম হয়েছে এবং হচ্ছে প্রতিনিয়ত ফার্টিলিটি ক্লিনিক গুলোতে। কিছু ব্যাঙ ও অন্যান্য উভচরদের কোষে এমন একটি প্রোটিন আছে যেটা এন্টিফ্রিজং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং সম্পূর্ণ ফ্রিজিং করে ফেলার পরেও তাদের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। ক্রায়োবায়োলজিস্টরা আশাবাদি ন্যানোটেকনোলজি দিয়ে পুনরুজ্জীবনের প্রক্রিয়া চালু করা সম্ভব হবে। কোন কোন ক্রায়োবায়োলজিস্ট এর মতে এটা শুরু হয়ে যেতে পারে ২০৪৫ সালের মাঝেই।

 

 

 

 

ব্লগার Najmun Nahar Nipa এর অন্যান্য পোস্টঃ
আপনার পছন্দের তালিকায় আরও থাকতে পারেঃ
0 মন্তব্য
আপনার মতামত দিন
বাংলা বর্ণমালার পঞ্চমতম বর্ণ কোনটিঃ
Hit enter to search or ESC to close
হ্যালো, আমার নাম

Najmun Nahar Nipa

Graphics Designer