দিনাজপুরনিউজ২৪ ডটকমের ব্লগসাইটে আপনাকে স্বাগতম!

প্রকাশঃ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হতে পারে আধুনিক পদ্ধতিতে শিং বা মাগুর মাছ চাষ।

বর্তমানে আমাদের দেশে হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার। যাদের বেশির ভাগই চাকুরী নামের সোনার হরিণের পিছনে ছুটতে ছুটতে পায়ের জুতার তলা ক্ষয় করছেন কিন্তু দেখা মিলছেনা চাকুরী নামের সোনার হরিণটির। যারা এই চাকুরী নামের সোনার হরিণের পিছনে ছুটছেন তাদের উদ্দেশ্যে আমার মতো অতি সাধারন লোকের ছোট এই পরার্মশ। আশা করি সকলের কাজে লাগবে।

ভাতে মাছে বাঙ্গালি এটা আমাদের সবার জানা। কোন এক সময় এই মাছ পাওয়া যেতো নদী নালায়, খাল ও বিলে। যে যার মতো করে মাছ ধরতো কেউ নিষেধ করতো না। বর্তমানে নদীতে প্রচুর মাছ না থাকায় বাণিজ্যিক ভাবে শুরু হয়েছে মাছ চাষ। এই মাছ চাষ করে অনেকেই সফলতা অর্জন করেছেন। আমার জানা মতে মাছ চাষে কোন লোকসান হয় না। কারন মাছ একমাত্র খাদ্য সামগ্রী যা মৃত্যু এবং জীবিত বিক্রয় করা এবং খাওয়া হালাল।

বাংলাদেশে সব অঞ্চলেই প্রায় ছোট ছোট পুকুর, ডোবা আছে। এই পুকুর বা ডোবা গুলো পরিচর্যা করে দেশীয় মাছ চাষ করা সম্ভব। অতি অল্প পুজি নিয়ে এই মাছ চাষ করা যায়। বর্তমান সময়ে মাছ চাষের উপর বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারি  কোম্পানী গুলো স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন। এই প্রশিক্ষনে শিক্ষিত বেকাররা অংশ গ্রহন করে প্রশিক্ষণ গ্রহন করে শুরু করতে পারেন মাছ চাষ।

বর্তমানে ছোট ছোট পুকুর বা ডোবা গুলোতে শিং ও মাগুর চাষ করে অনেকেই লাভবান হয়েছেন। কিভাবে লাভবান হওয়া যায় তা নিয়ে উদাহরন স্বরুপ নিম্নে এক বিঘা পুকুর বা জলকরের উপর তুলনা মূলক চিত্র তুলে ধরলাম।

ধরুন আপনার একবিঘা জলকর আছে  যেখানে প্রাকৃতিক ভাবে মাছ থাকে। সেই একবিঘা জলকরে আপনি বাণিজ্যিক ভাবে শিং বা মাগুর মাছ চাষ করতে পারেন। প্রতি শতকে একক ভাবে শিং অথবা মাগুর ২৫০-৩০০টি চাষ করা যায়। এই হিসেবে এক বিঘাতে খরচ হবে(ছয় মাসের প্রজেক্ট)

১) পুকুরে খাজনা-১০০০০টাকা।

২) পোনার মূল্য-৯৯০০পিস*৩=২৯৭০০টাকা।

৩)খাদ্যের মূল্য-২৪০০কেজী*৪৫=১০৮০০০টাকা।

৪) মেডিসিন খরচ-২০০০*৬=১২০০০টাকা।

৫) শ্রমিক খরচ- ৫০০০*৬=৩০০০০টাকা।

৬) অন্যান খরচ-১০০০*৬=৬০০০টাকা।

মোট খরচ হবে-১৯৫০০০০টাকা।

১০% মরটালিটি ধরে ছয় মাস পর যদি ২০টায় ১কেজী হয় তাহলে মোট মাছ পাওয়া যাবে ৮৯০০÷২০=৪৪৫কেজী।

এই ৪৪৫ কেজী মাছ বিক্রি করে আয় হবে =৪৪৫*৭০০=৩১১৫০০টাকা।

নীট আয় হবে=৩১১৫০০-১৯৫০০০=১১৬৫০০টাকা। এটা একটি ধারনা মাত্র। এলাকা ভেদে ৫%-১০% কম বেশী হতে পারে। 

তাই আমি মনে করি শিক্ষিত বেকার যুবকেরা চাকুরীর পিছনে না দৌড়ে মাছ চাষের মাধ্যমে স্ব-কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূর করতে পারেন।

 

শেয়ার করুনঃ
ব্লগার MD.ZIAUR RAHMAN এর অন্যান্য পোস্টঃ
আপনার পছন্দের তালিকায় আরও থাকতে পারেঃ
0 মন্তব্য
আপনার মতামত দিন
বাংলা বর্ণমালার দ্বিতীয় বর্ণ কোনটিঃ
Hit enter to search or ESC to close
হ্যালো, আমার নাম

MD.ZIAUR RAHMAN