দিনাজপুরনিউজ২৪ ডটকমের ব্লগসাইটে আপনাকে স্বাগতম!

প্রকাশঃ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

অজানা ভালোবাসায়- গভীর প্রেম।


সৈকত জন্মের আগেই পিতা বিদায় নিয়ে পারি জমান পরপারে। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান সৈকত। সৈকতের মায়ের বয়স আর কতই হবে- ২০ কি ২২ বছর। এ বয়সে প্রত্যেক মেয়েরাই চাই স্বামীকে নিয়ে সুখের জীবন অতিবাহিত করতে। কিন্তু নিয়তির নিমর্ম পরিহাসের কারনে তাকে হতে বিধবা। ৬ মাস পরে পৃথিবীর মুখ দেখে সৈকত। বাবুটার মুখের দিকে তাকিয়ে স্বামী হারনোর বেদনা কিছুটা ভূলে য়ায় সৈকতের মা। দেখতে খুব সুন্দরী হওয়ার কারনে বিভিন্ন জায়গা থেকে ২য় বিয়ের প্রস্তাব আসতে থাকে। মা- বাবা ও চাই তার মেয়ে আরেকটি বিয়ে করে সুখের সংসার করুক। কিন্তু সৈকতের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি তার মা- বাবাকে সাফ জানিয়ে দেন আর কোন বিয়ে করবেন না। মা- বাবা শত চেষ্টা করার পরেও তাকে রাজি করাতে না পেরে শেষে তারই সিন্ধান্ত মেনে নেন। মা- বাবার অনেক সম্পদ থাকার পরেও ছেলেকে নিজের মতো করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি চাকুরীর সন্ধান করতে থাকেন। পেয়ে যান প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা পদে চাকুরী।
দেখতে দেখতে সৈকত এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। পড়া লেখা প্রায় শেষের দিকে। অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে পাশ করে বের হয়ে আসে সৈকত। বিসিএস দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তার মা ভাবতে থাকে ছেলে বড় হয়েছে - একটি ভালো শিক্ষিত মেয়ের সাথে বিয়ে দিতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করবো। একদিন রাতে খাবার টেবিলে সৈকতকে তার মা বলে কিরে তুইতো অনেক বড় হয়েছিস- তো বিয়ে সাদি তো করতে হবে তাই না! তো কোন পছন্দের কেউ আছে নাকি? মায়ের এমন কথা শুনে হাসতে হাসতে সৈকত বলে- তুমি যে কি বলোনা মা। আমার আবার  পছন্দ। তুমি যাকে পছন্দ করে বিয়ে দিবে সেটাই আমার পছন্দ হবে।
সৈকত বিসিএস পরীক্ষায় টিকেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই থানা নির্বাহী অফিসার পদে যোগদান করতে হবে তাকে। তার মায়ের ইচ্ছা চাকুরীতে যোগদানের আগেই ছেলেকে বিয়ে দিবে। তারই ধারাবাহিকতায় চলে ছেলের মেয়ে দেখার নানা জল্পনা কল্পনা। হঠাৎ মনে পড়ে তার বান্ধবীর মেয়ের কথা। অনেক আগে দেখে ছিলেন সেই মেয়েটিকে। মেয়েটির নাম তন্নি। তন্নি সৈকতের দুই বছরের ছোট। পড়া লেখা করে- তবে কোন ক্লাসে এবং কোথায় পড়ে জানা নেই। ভাবতে ভাবতে ফোন দেয় বান্ধবীর কাছে। ফোনে অনেক আলাপের মাঝে  এক পর্যায়ে উঠে আসে তাদের ছেলে মেয়েদের কথা। তন্নির মা সৈকতের বিষয়ে জানতে চায়- সে কি করে, কোথায় আছে কেমন আছে। সৈকতের মা বলেন সৈকত এখন থানা নির্বাহী অফিসার অল্প সময়ের মধ্যে জয়েন্ট করবে। শুনে অবাক তন্নীর মা- তাই নাকি অনেক ভালো লাগলো। অপরদিকে সৈকতের মা তন্নির বিষয়ে একই ভাবে জানতে চায়। কথা বলার এক পর্যায়ে তন্নির মায়ের নিকট একটি দাবি করে বসে- আর যায় হোক আমি তোমার মেয়েকে আমার ছেলের বউ করে আনতে চাই তুমি কিন্তু না বলতে পারবে না। তন্নির মা কোন অযুহাত ছাড়াই এক বাক্যে বলে বসে এতো আমার মেয়ের কপাল। 
এক পর্যায়ে সৈকত ও তন্নির অজান্তে পারিবারিক ভাবে বসে উভয়ের বিয়ে ঠিক করে তারা। তন্নিকে খবর দিয়ে বাড়ীতে আনে তার পরিবার এবং তাকে জানানো হয় আগামী ১৫দিন পর তার বিয়ে। তন্নি ভালোবাসে তারই ক্লাসমেন্ট সাগরকে- সে সাগরকে ছাড়া কোন ভাবেই বাঁচবে না। সে কাউকে কোন কিছু না বলে চুপচাপ ভাবতে থাকে কি করা যায়। বিকেল বেলা কিছু কেনা কাটা করার জন্য তন্নি  বাজারে যায়- বাজারে যাওয়ার পথে দেখা মিলে সৈকতের, আরে সৈকত ভাই আপনি, কোথায় গিয়েছিলেন, কেমন আছেন আপনি। আছি আলহামদুলিল্লাহ, একটু কেনা কাটার জন্য বাজারে এসেছিলাম তো তুমি কেমন আছো তন্নি। কেমন থাকবো সৈকত ভাই- আমি তো মহা টেনশনে আছি একে তো সামনে পরীক্ষা আবার মা বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে।  তাতে কি এ তো অনেক খুশির খবর- মিষ্টি মুখ করাবে না- মজার ছলে সৈকত তন্নি কে কথা গুলি বলছে। তো ম্যাডাম বরটা কে, বাড়ী কোথায়, কি করে সে। আমি এ সবের কিছুই জানি না সৈকত ভাই। তন্নি ও সৈকত একই বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়তো- তন্নি ও সৈকত একে অপরকে চেনে ও জানে। সেই সুবাদে তন্নি সৈকতকে বলে আপনার কি একটু সময় হবে- আপনার সাথে আমার কিছু গুরুত্ব পূর্ন কথা আছে। বলো বলো কোন সমস্যা নেই প্রয়োজনে কোন সহযোগীতা লাগলে তাও করবো। তাই সৈকত ভাই। হ্যাঁ  তন্নি তাই। সৈকত ভাই আমি জানি না কোন ছেলের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করে রেখেছে- তবে আমি একজন কে ভালোবাসি, ওকে ছাড়া আমি অন্য কোন ছেলেকে বিয়ে করতে পারবো না। তাই নাকি তন্নি- হ্যাঁ সৈকত ভাই। তো তোমার সেই পছন্দের ছেলেটি কি করেন। আর আমি তোমাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি। সৈকত ভাই ও আমার ক্লাসমেট। একমাত্র আপনিই পারেন আমাকে এই বিপদ হতে রক্ষা করতে- করবেন তো!!! কিভাবে সাহায্য করতে হবে বলো। আপনি আমাকে ১৫ দিনের জন্য এমন জায়গাতে রাখবেন কেউ যেন আমাকে খুঁজে না পায়- তার পর যা করার আমি করবো। অনেক কথার পর সৈকত রাজী হয়ে যায়- ঠিক আছে কবে করতে হবে কাজটি। আজই করতে হবে সৈকত ভাই। ঠিক আছে তুমি সন্ধায় রেডি থেকো আমি যথা সময়ে চলে আসবো। তন্নি সঠিক সময়ে বাড়ী থেকে চলে আসে- সৈকত তন্নিকে নিয়ে একটি বাসায় রেখে আসে। সেখানে কেউ থাকে না। তন্নি একাই থাকতে শুরু করে সেখানে- সৈকত সময় মতো তন্নির খোজ খবর নেন ও খাবার দিয়ে আসেন। একদিন রাতে খাবার দিতে গিয়ে আকাশে মেঘ দেখা দেয়- তন্নি রাতে একা থাকতে ভয় পাচ্ছিলো আকাশের অবস্থা খারাপ তাই। সৈকত তাকে একা রেখে যেতে পারছে না। আকাশ পরিস্কার হওয়ার পর সৈকত বাসায় ফিরে যায়। রাতে খাবার টেবিলে বসে সৈকতের মা সৈকত কে বলে বাবা একটি দুঃসংবাদ আছে- কি দুঃসংবাদ মা। না মানে যে মেয়েটি সাথে তোর বিয়ে হওয়ার কথা- মানে তন্নীকে ওরা নাকি আজ কয়দিন হলো খুজে পাচ্ছে না। মায়ের এই কথা শোনার পর সৈকত অবাক তাকিয়ে থাকে- কি বলছো মা। তন্নির সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছো তা তো আগে কখনো আমাকে বলোনি। সৈকত মাকে কিছু না বলে রাতে আবার চলে যায় তন্নির নিকট। তন্নি সৈকত কে দেখে অবাক আবার মনে মনে সন্দেহ করছে- কোন কুমতলব নিয়ে আসেনি তো সৈকত ভাই। তন্নি আমি আবার কেন আসলাম জানতে চাইলে না যে- কেন সৈকত ভাই। আমি তোমাকে তোমার বাসায় ফিরে দিতে এসেছি- তোমাকে এখনি আমার সাথে যেতে হবে। না আমি যাবো না সৈকত ভাই- ওরা আমাকে অন্য ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দিবে- আমি সাগর ছাড়া বাঁচবো না প্লিজ আমাকে জোড় করে নিয়ে যাবেন না। সৈকত তন্নির মুখের দিকে যত দেখছে ততই তন্নির প্রতি দূর্বল হচ্ছে।
এক পর্যায়ে সৈকত তন্নিকে নিয়ে রাতেই তাদের বাসায় হাজির হলো- বাসায় সবাই অবাক, কি ব্যাপার তন্নি এত রাতে একজন.............!!!  
তন্নির মা, বাবা, মামা, মামাতো ভাই সৈকতের সাথে অশালীন আচারন করা শুরু করলে- তন্নি তাদের কে থামতে বলে এবং সৈকতের সাথে খারাপ আচারন না করার জন্য অনুরোধ করা সত্বেও তন্নির মামাতো ভাই সৈকতের উপর হাত উঠানো সময় সৈকত তাকে ধমক দিয়ে বলেন থামুন- বেশ হয়েছে। আপনারা কেমন লোক একজন শিক্ষিত মেয়ের মতামত না নিয়ে হঠাৎ অন্য ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করাটা কি ঠিক করেছেন। তারও তো কোন পছন্দের ছেলে থাকতে পারে- তাই না!! আপনার মেয়ের যে ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে রেখেছেন সে অন্য কেউ নয়- সেটা আমি। আমি তন্নিকে অনেক ভালোবাসি এবং পছন্দ করি। ওকে বউ হিসেবে পেলে আমি অনেক সুখি হতে পারতাম। তার পরেও ওকে আমি বিয়ে করতে পারবো না। কারন তন্নি সাগরকে অনেক বেশি ভালোবাসে। আমি আপনারদের অনুরোধ করবো- তন্নির মতের বিরুদ্ধে কিছু করবেন না। অবশেষে সৈকতের ত্যাগের বিনিময়ে সাগরের সাথে তন্নির বিয়ে হয়ে সুখের সংসার শুরু করে।
লেখকঃ-
মোঃ জিয়াউর রহমান
দক্ষিন নয়াপাড়া,ঘোড়াঘাট,দিনাজপুর।

 

শেয়ার করুনঃ
ব্লগার MD.ZIAUR RAHMAN এর অন্যান্য পোস্টঃ
আপনার পছন্দের তালিকায় আরও থাকতে পারেঃ
0 মন্তব্য
আপনার মতামত দিন
বাংলা বর্ণমালার দ্বিতীয় বর্ণ কোনটিঃ
Hit enter to search or ESC to close
হ্যালো, আমার নাম

MD.ZIAUR RAHMAN