দিনাজপুরনিউজ২৪ ডটকমের ব্লগসাইটে আপনাকে স্বাগতম!

শিক্ষা ও প্রযুক্তি

প্রকাশঃ ২৭ জুন, ২০২০

শিক্ষা ও প্রযুক্তি

কোভিড-১৯ মহামারীতে ডাচবাংলা ব্যাংককে পাশে চায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, দেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকসমুহ, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রতি বছর হাজারো শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে থাকে। তারই অংশ হিসেবে বেসরকারি ব্যাংকসমূহ নিজেদের নামে ফাউন্ডেশন গঠন করে এবং সেখান থেকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়ে থাকে।

আর এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে দারিদ্র, মেধাবী, অহসায় ও প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ভাবে বাছাই করা হয়ে থাকে। শিক্ষাবৃত্তি প্রদান জেএসসি স্তর থেকে শুরু হলেও অধিকাংশ ব্যাংক উচ্চ মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে একমাত্র ডাচ্ বাংলা ব্যাংক প্রথমবারের মত মাস্টার্স এবং পিএইচডি লেভেলেও শিক্ষাবৃত্তি ঘোষণা দেয়।

তেমনি, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক ফাউন্ডেশন প্রতিবছর এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক লেভেলে ভালো ফলাফলধারী, দারিদ্র, অসহায়, গ্রামীণ ও শহুরে ছাত্র ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করে থাকে।

বিশেষকরে, বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের রকেট একাউন্টের মাধ্যমে ব্যাংকটি মাসিক হারে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে থাকে। শিক্ষাবৃত্তি প্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য এইচএসসি ও স্নাতক চলমান বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর জানুয়ারি মাস ব্যাপী নবায়ন করতে হয়। অর্থাৎ, তার আগের বছরের ভালো ফলাফল ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে নবায়নের টাকা প্রতিবছর মার্চের শেষ সপ্তাহে বা এপ্রিলের শুরুতে দেওয়া হতো। কিন্তু এ বছর জুন পেরিয়ে গেলেও ১৮ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীকে কোনো টাকা প্রদান করেনি ডাচ্ বাংলা ব্যাংক ফাউন্ডেশন।

যেখানে অন্যান্য সকল শিক্ষাবৃত্তি প্রদান কারী ব্যাংক যেমন, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন, আল আরাফা ইসলমী ব্যাংক ফাউন্ডেশন ও প্রাইম ব্যাংক ফাউন্ডেশন, সেন্টাল ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট তাদের বৃত্তি প্রাপ্ত সকল ছাত্রছাত্রীদের ধারাবাহিক ভাবে প্রদান করে আসছে। কিছু কিছু ফাউন্ডেশন আবার করোনা কালীন ফ্যামিলি সাপোর্ট এর জন্য অতিরিক্ত টাকা ও দিয়েছে।

এ ব্যাপার ডাচ্ বাংলা ব্যাংক শিক্ষাবৃত্তি বিষয়ক হেল্পলাইনে ফোনের মাধ্যমে জানা যায় যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হলে অথবা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে টাকা প্রদান করা হতে পারে।

যেহুতু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, সুতরাং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খুললে টাকা প্রদান করা হবে না এমনাটাও বলছে। বৃত্তিপ্রাপ্ত অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এই মহামারী কভিড -১৯ তে, খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছে। কেননা যারা বৃত্তি পায় তাদের ৯০% শিক্ষার্থী গ্রামের এবং তারা দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। যেখানে অর্থকষ্টে জীবন বাচানোই দূর্বিষহ সেখানে করোনা মোকাবিলা এদের কাছে বিলাসিতা মনে হয়। দিনশেষে দুমুঠো ভাত সকলের দরকার। আর শিক্ষাবৃত্তি যেহেতু সিএসআর কার্যক্রমের আওতায় সুতরাং এই মূহুর্তে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হবে সৎ পাত্রে কন্যা দানের মত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ডাচ্ বাংলা ব্যাংক শিক্ষা বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী মোঃ ইয়াসিন আল এনামুল বলেন,"আমি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শিক্ষা বৃত্তি কার্যক্রমের একজন সুবিধাভোগী।আমার বাবা একজন দিনমজুর। বিগত দিনগুলোতে বৃত্তির টাকা দিয়ে আমি আমার শিক্ষা কার্যক্রম মোটামুটি চালিয়ে নিতে পারতাম।পাশাপাশি টিউশনির মাধ্যমে প্রাপ্ত টাকার কিছু অংশ বাড়িতে পাঠাতাম, যা পরিবারের  কষ্টের কিছু লাঘব ঘটাত।আমরা  তিন ভাই-বোন যারা প্রত্যেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত।যার কারণে আমার  দিনমজুর বাবার পক্ষে এক প্রকার দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বিগত ৪ মাস ধরে বন্ধ থাকলেও বন্ধ থাকে নি মেস মালিকের ভাড়ার চাপ।নতুন করে যোগ হয়েছে অনলাইন ক্লাসের কার্যক্রম যা অত্যন্ত ব্যায়বহুল প্রক্রিয়া যেখানে ইন্টারনেটের চড়া দামের  পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ডিভাইসের অপ্রতুলতা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে আমার পরিবার।এমতাবস্থায় আস্থার শেষ ঠিকানা, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক শিক্ষা বৃত্তির সহায়তার কোনো বিকল্প নেই। এর ব্যত্যয় ঘটলে আমার পক্ষে শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া কোনো ভাবেই সম্ভব না,এজন্য আমি ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “ ডাচ বাংলা থেকে আমি সেই উচ্চ মাধ্যমিক থেকে বৃত্তি পাই, পরিবারের মা বাবার পরে দ্বিতীয় অবিভাবক হিসেবে কাজ করে তারা। তাদের সহায়তায় আজ আমি স্নাতক লেভেল ও ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারছি সেই জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি৷ আশাকরি এই দুঃসময়েও তারা আমাদের পাশে থাকবে। আজ যদি আমরা ঠিকমতো খেয়ে বেঁচেই না থাকি তবে পরবর্তীতে কিভাবে লেখাপড়া চালাবো?”অনেকে ভেবেছিলো খাবার বিল, মেসের ভাড়া ইত্যাদির নবায়নের টাকা পাওয়ার পরে শোধ করবে।

নবায়নের টাকা পাবে বলে আশায় বুক বেধেছিলো হাজারো শিক্ষার্থী। কেননা জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিনমাস বাংলাদেশে করোনার তেমন আবির্ভাব না হওয়ায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ছিলো। তাই স্বাভাবিকভাবে জানুয়ারি থেকেই সবাই নবায়নের টাকার আশায় ধারদেনা করে চলা শুরু করে।অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৪ মাস ধরে বন্ধ থাকলেও বন্ধ থাকে নি মেস মালিকের ভাড়ার চাপ। পাশাপাশি যোগ হওয়া অনলাইন ক্লাসের কার্যক্রম যা অত্যন্ত ব্যায়বহুল যেখানে প্রয়োজনীয় ডিভাইসের অপ্রতুলতা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

করোনাভাইরাস মহামারীর সময় অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যখন তাদের বৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীর অনুদান হিসেবে অতিরিক্ত টাকা প্রদান করেছে, সেখানে ডাচ্ বাংলা ব্যাংক ফাউন্ডেশন এমন আচরণ, বৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীর মধ্য হতাশা, অভিমান এবং ক্ষোভ তৈরি করছে।

বিষয়টি আমলে নিয়ে, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক ফাউন্ডেশননের প্রতি হাজারো বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের দাবি নবায়নের টাকা যতদ্রুত সম্ভব বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব একাউন্টে প্রদান করা হোক। এ বিষয়ে ব্যাংক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করছেন এবং বিষয়টি খুব দ্রুতই সুরাহা হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন।

ব্লগার জুহিন কাওসার এর অন্যান্য পোস্টঃ
আপনার পছন্দের তালিকায় আরও থাকতে পারেঃ
0 মন্তব্য
আপনার মতামত দিন
বাংলা বর্ণমালার প্রথম বর্ণ কোনটিঃ
Hit enter to search or ESC to close
হ্যালো, আমার নাম

জুহিন কাওসার