দিনাজপুরনিউজ২৪ ডটকমের ব্লগসাইটে আপনাকে স্বাগতম!

সমসাময়িক

প্রকাশঃ ১০ জুলাই, ২০২০

সমসাময়িক

চীন- ভারত দ্বন্দ্ব ও এশিয়ার রাজনীতিতে স্নায়ুযুদ্ধঃ

কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে যখন বিশ্বব্যাপী লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা ঠিক তখনই এশিয়ার রাজনীতিতে চীন চীন বিরোধী জোটের মধ্য স্নায়ু যুদ্ধের আলামত দৃশ্যমান হচ্ছে। লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চীন- ভারত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী এই দুই রাষ্ট্রের বিবাদকে পুঁজি করে ক্রমে উত্তপ্ত হচ্ছে এশীয় মহাদেশের রাজনীতি। চীন এবং ভারত দু'পক্ষই এখন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে এই সীমান্ত বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করছে। কিন্তু, এখন প্রশ্ন হচ্ছে, চীন ভারতের মধ্য কী শুধু সীমান্ত বিরোধই আছে না আরো কিছু? এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, চীন ভারত এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সমস্যা বহুপাক্ষিক।

প্রথমত, অর্থনৈতিক ঘাটতির সংকট। গত বছর চীনকে হটিয়ে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত এপ্রিলে নরেন্দ্র মোদির সরকার তাদের বিদেশী বিনিয়োগ আইন কিছুটা কঠোর করেছে। অনেকেই বলছে, চীনকে টার্গেটে রেখেই পদক্ষেপ নিয়েছে তারা। তাছাড়া, চীন থেকে আসা শেয়ারভিত্তিক বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণেও পরিকল্পনা সাজাচ্ছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। ইতিমধ্যে, গালওয়ান কান্ডের পর চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হতে সরে আসতে শুরু করেছে মোদি সরকার।গালওয়ান দ্বন্দ্বের পর নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে ৫৯টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে ভারত। ভারতের এই ঘোষণার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও একই হুমকি দিচ্ছে চীনা কোম্পানিগুলোকে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে চীন বিরোধী যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছিল তাতে এবার নতুন করে সামিল হতে যাচ্ছে চীনের বৈরী প্রতিবেশী ভারত। ভারত চীনের এই বাণিজ্য সংকট শুরু হয়েছিল গালওয়ান সংকটেরও আগে। গত নভেম্বরে, বাণিজ্যিক জোট রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এই জোটের প্রধান উদ্যেক্তা ছিল চীন। ভারতের কাছেও অকাট্য যুক্তি রয়েছে চীনের ওপর থেকে বাণিজ্য নির্ভরশীলতা কমানোর। ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে যেখানে ভারতের মোট রফতানির পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে এই নয় বছরে চীনে তাদের রফতানি কমেছে ১৪ শতাংশ। এই বাণিজ্য ঘাটতিও নরেন্দ্র মোদির সরকারকে চীন বিরোধী হওয়ার জন্য একটু হলেও উৎসাহ যুগিয়েছে।

দ্বিতীয়ত, সামরিক কারণে চীন - ভারত দ্বন্দ্ব তুঙ্গে। সামরিক দিক দিয়ে ভারতকে সহায়তা চীনকে শায়েস্তা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ তার মিত্র দেশগুলো কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ায় তাদের সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। তাছাড়া, গালওয়ান উপত্যকায় চীনের সাথে সংঘাতের পর জাপান- আমেরিকা- অষ্টেলিয়া- ভারত এই চর্তুদশীয় অক্ষ বা কোয়াডকে সামরিক চেহারা দেওয়া নিয়ে ভাবনা- চিন্তা শুরু হয়েছে। গালওয়ান সংঘাতের সময়ই জাপানের সঙ্গে ভারত নৌসেনা মহড়া করে। তাছাড়া, নিয়ত ভারত সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি করে যাচ্ছে চীনকে রুখতে।

তৃতীয়ত, ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে চীন ভারতের দ্বন্দ্বও প্রকট হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিয়ত ভারত নির্ভরতা কমিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকছে। চীনের আধিপত্য দক্ষিণ এশিয়ায় বৃদ্ধির কারণে ভারত তার মিত্র রাষ্ট্রগুলো চিন্তায় পড়ে গেছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন নেপাল সরকার " গ্রেটার নেপাল" ধারণা জোরদার করার অংশ হিসাবে কালাপানি নিয়ে ভারতের সাথে বিবাদে জড়িয়েছে। তাছাড়া, নেপাল সরকার ইতিমধ্যে নেপালে ভারতীয় চ্যানেলের প্রচার নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে, চীন বিরোধীপক্ষ নেপালের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারকে উৎখাত চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছে। তাছাড়া, ভারতের অপর প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভূটানের সাথে সীমান্ত বিরোধ মেটাতে চাইছে চীন। চীনের এই প্রচেষ্টায় অস্বস্তিতে পড়ে গেছে ভারত। ভূ- রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভারত চীনের যোগাযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েও বিরোধ স্পষ্ট। চীন যখন এই অঞ্চলে " বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ " সফলের জন্য কাজ করছে তখন দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য আনার জন্য ভারত "স্পাইস রুট" প্রজেক্ট চালু করে।

এভাবে অর্থনৈতিক, সামরিক, ভূ-রাজনৈতিক কারণে ভারত চীন দ্বন্দ্ব নিয়ে এশিয়ায় স্নায়ুযুদ্ধের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। তবে, করোনার সংকটকালে এই প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্রের উচিত হবে কারো প্রক্সি হয়ে বিবাদে না জড়িয়ে নিজেদের স্বার্থে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে করোনাকালীন করোনা পরবর্তী সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা

লেখকঃ মোঃ হাসান তারেক,

প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,

ডক্টর মালিকা কলেজ, ঢাকা

 

ব্লগার Md. Hasan Tareq এর অন্যান্য পোস্টঃ
আপনার পছন্দের তালিকায় আরও থাকতে পারেঃ
0 মন্তব্য
আপনার মতামত দিন
বাংলা বর্ণমালার দ্বিতীয় বর্ণ কোনটিঃ
Hit enter to search or ESC to close
হ্যালো, আমার নাম

Md. Hasan Tareq