দিনাজপুরনিউজ২৪ ডটকমের ব্লগসাইটে আপনাকে স্বাগতম!

সমসাময়িক

প্রকাশঃ ০১ অক্টোবর, ২০২০

সমসাময়িক

কেন সংঘাতের পথ বেছে নিল আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান?

গত রবিবার থেকে সাবেক দুই সোভিয়েত রাষ্ট্র আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত চলছে। এই সংঘাতের মুখ্য কারণ হচ্ছে, ভূ-কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল নাগোর্নো - কারাবাখ। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অঞ্চলটি আজারবাইজানের অংশ। নাগোর্নো- কারাবাখ প্রধানত পাহাড় বন ঘেরা দুর্গম এলাকা। এই অঞ্চলে প্রায় দেড় লাখ মানুষের বাস। তাদের বেশিরভাগই আজারবাইজানের শাসনের বিরোধী আর্মেনীয়। নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চলের আয়তন প্রায় ,৪০০ বর্গ কিলোমিটার। এই দুই রাষ্ট্রের মধ্য বিরোধ নতুন নয়। তবে, গত জুলাইয়ের দিক থেকে অনুমান করা যাচ্ছিল যে, আবার সংঘাতের দিক যাচ্ছে প্রতিবেশী এই দুই রাষ্ট্র।

সংঘাতের কারণঃ

আজারবাইজান আর্মেনিয়ার বিরোধের প্রধান কারণ হচ্ছে, এই দুই রাষ্ট্রের মধ্যবর্তী বিতর্কিত ছিটমহল নাগোর্নো-কারাবাখ। এই ছিটমহলের অধিকাংশ জনগনই আর্মেনিয়ান। ১৯২৩ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের শাসক লেনিন প্রশাসনিক কারণে এই ছিটমহলটিকে আর্মেনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে আজারবাইজানের নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তর করে।

তখন থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। ১৯৮১ সাল থেকে দুই পক্ষ বিরোধে লিপ্ত হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ বিরতির পূর্ব পর্যন্ত সংঘর্ষে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয় এবং অনেকেই বাস্তুচ্যুত হয়। মিনস্ক গ্রুপভুক্ত দেশ রাশিয়া, আমেরিকা ফ্রান্সের উদ্যোগে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। কিন্তু, ২০১৬ সালে আবার তারা বিরোধে জড়ালে রাশিয়ার উদ্যোগে তা নিষ্পত্তি হয়

নাগোর্নো-কারাবাখের ভূ-কৌশলগত গুরুত্বঃ

ভূ-কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হওয়ায় এখানে বিভিন্ন সময়ে মুসলমান খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের আগমন ঘটেছে। নাগোর্নো- কারাবাখ ককেশাস অঞ্চলের মুখ্য ট্রানজিট পয়েন্ট হিসাবে কাজ করে। বিশ্বের তেল গ্যাসের সরবরাহের পথ হিসাবে নাগোরনো-কারাবাখ পরিচিত। একারণে, আর্মেনিয়া আজারবাইজানের সংঘাতে বিশ্ব বাজারে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলশ্রুতিতে, এই অঞ্চলে যখনই সংঘাত হয়েছে তা আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্সের মত শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো সমাধানের চেষ্টা করেছে।

কিন্তু, এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবং আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের কারণে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর উদ্যোগে কিছু ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। তথাপি, জাতিসংঘ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ বদ্ধের জন্য অনুরোধ করেছে দুইপক্ষকেই।

আর্মেনিয়া আজারবাইজানের সংঘাতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকাঃ

নাগোর্নো-কারাবাখ সংঘাতে প্রধানত দুই আঞ্চলিক শক্তি তুরস্ক রাশিয়ার ভূমিকা চোখে পড়ার মত। আজারবাইজান মিত্রদেশ হিসাবে তুরস্কের সহানুভূতি পাচ্ছে। অপরদিকে, আর্মেনিয়ার সাথে রাশিয়ার বেশ সখ্যতা রয়েছে। একারণে, আর্মেনিয়া রাশিয়ার সহানুভূতির প্রত্যাশা করছে। তবে, আর্মেনিয়া আজারবাইজান উভয়ের সাথে রাশিয়ার অস্ত্র বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক সর্ম্পক থাকার কারণে আশা করা হচ্ছে, রাশিয়া একারণে সরাসরি কোনপক্ষকে সর্মথন দিবে না।

কিভাবে সমাধান করা যেতে পারে?

ককেশাস অঞ্চলের শান্তি শৃঙ্খলার জন্য এই বিরোধ নিষ্পত্তি করা অতীব জরুরি। এই উদ্দেশ্য জাতিসংঘসহ অন্যান্য শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর উচিত হবে বিবাদমান দুইপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিক বিধি- বিধানের ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া। এক্ষেত্রে, রাশিয়া তুরস্কের কার্যকরী উদ্যোগ অবশ্যম্ভাবী। তবে, আশা করা যায় রাশিয়া আগের মত এবারও কার্যকর ভূমিকা নিবে।

লেখকঃ

মোঃ হাসান তারেক,

প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,

ডক্টর মালিকা কলেজ,ঢাকা

ব্লগার Md. Hasan Tareq এর অন্যান্য পোস্টঃ
আপনার পছন্দের তালিকায় আরও থাকতে পারেঃ
0 মন্তব্য
আপনার মতামত দিন
বাংলা বর্ণমালার চতুর্থতম বর্ণ কোনটিঃ
Hit enter to search or ESC to close
হ্যালো, আমার নাম

Md. Hasan Tareq