দিনাজপুরনিউজ২৪ ডটকমের ব্লগসাইটে আপনাকে স্বাগতম!

সমসাময়িক

প্রকাশঃ ০২ মার্চ, ২০২১

সমসাময়িক

ভ্যাকসিন কূটনীতিঃ কে এগিয়ে ভারত না চীন?

কোভিড-১৯ সংক্রমণের পর থেকে বিশ্বব্যাপী বহুল প্রতীক্ষিত বিষয়টির নাম হচ্ছে, করোনার ভ্যাকসিন। এই জন্য সংক্রমণ শুরুর পর থেকে বড় বড় দেশগুলো করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের প্রতিযোগিতায় অবর্তীণ হয়। অবশেষে, বহুল প্রতীক্ষিত সেই ভ্যাকসিন আবিস্কার হয়েছে। করোনার ভ্যাকসিন আবিস্কারের পূর্বেই এই প্রশ্ন উঠেছিল যে, সমতার ভিত্তিতে সকল দেশ ভ্যাকসিন পাবে কি না? সন্দেহ যে নিছক ছিল না, তা কিন্তু এখন প্রমাণিত সত্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়ার মত দেশগুলো নেমেছে চাহিদার তুলনায় বেশি ভ্যাকসিন মওজুদের প্রতিযোগিতায়। ঠিক একই সময়ে, প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত চীন নেমেছে ভ্যাকসিন কূটনীতিতে। চিরবৈরী এই দুই দেশ ভ্যাকসিনকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক রাজনীতিতে তাদের প্রভাব বলয় সম্প্রসারণের কূটকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে।

ভ্যাকসিন কূটনীতিতে, এক্ষেত্রে অনেকটা শক্ত অবস্থানে এখন নরেন্দ্র মোদির ভারত। টিকা তৈরির ক্ষেত্রে ভারতকে " পাওয়ার হাউস" হিসাবে উল্লেখ করা যেতেই পারে। কেননা, পৃথিবীর ৬০ শতাংশ টিকা তৈরি হয় এই ভারতেই। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট ২০২০ সালের জুন মাসে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত করোনার ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী ব্রিটিশ- সুইডিশ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা সাথে চুক্তি সম্পাদন করে। এই চুক্তি অনুযায়ী,ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত করোনার ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড উৎপাদন শুরু করে।

পাশাপাশি, ভারতের মেডিক্যাল রির্সাচ কাউন্সিল কোভ্যাক্সিন নামে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উৎপাদন করছে। কোভ্যাক্সিন নামক ভ্যাকসিনটি ভারত শুধু নিজ দেশেই ব্যবহার করছে। কিন্তু, অক্সফোর্ড উদ্ভাবিত কোভিশিল্ড নামক কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনটি ভারত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করছে।

ইতিমধ্যে, ভারত সেরাম ইনস্টিটিউট কর্তৃক উৎপাদিত অক্সফোর্ড- অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে মালদ্বীপ,ভূটান,নেপাল, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান,শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, কম্বোডিয়ায়। তাছাড়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অনেক দেশে ভ্যাকসিন কূটনীতি শুরু করে দিয়েছে ভারত। এমনকি, চীনের সীমান্তেও ভারতীয় ভ্যাকসিন পৌঁছে গেছে। ভারতের সরবরাহ করা দেড় লাখ ডোজ ভ্যাকসিন বিনামূল্যে পেয়েছে মঙ্গোলিয়া।

ভ্যাকসিন প্রাপ্তির পর ভারত বন্দনা এখন সবখানেই। ভ্যাকসিন প্রাপ্তির পরপরই মালদ্বীপের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ নাশিদ ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। শ্রীলঙ্কার বিরোধীদলের আইনপ্রণেতা এরান বিকমরত্নে ভ্যাকসিন প্রাপ্তির পর গণমাধ্যমকে বলেন, ভারতের উপহারের কারণে শ্রীলঙ্কা দ্রুত টিকা কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছে। বেশিরভাগ শ্রীলঙ্কান এজন্য কৃতজ্ঞ। নেপালে উপহারের ভ্যাকসিন পৌঁছানোর পর সেদেশের সরকার প্রধান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন। অথচ, কিছুদিন আগেও আঞ্চলিক বিরোধ নিয়ে উত্তপ্ত ছিল ভারত-নেপাল সর্ম্পক। এভাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে উপহার স্বরূপ ভ্যাকসিন পাঠিয়ে সর্ম্পক উন্নয়নের পাশাপাশি এই অঞ্চলে চীনের আধিপত্য হ্রাসের চেষ্টা করছে ভারত।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার এই ভ্যাকসিন কূটনীতিকে " ভ্যাকসিন মৈত্রী" নামে উল্লেখ করছেন। দিল্লি এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৮ লাখ ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে। সেখানে ব্লুমবার্গের দেয়া তথ্য মতে, চীন বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৯ লাখ ভ্যাকসিন সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও সবগুলো পৌঁছে দিতে পারেনি

ভারতের সাথে ভ্যাকসিন কূটনীতিতে পাল্লা দিতে চীন মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ফিলিপাইনকে তাদের উৎপাদিত সিনোভ্যাক ভ্যাকসিন উপাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইতিমধ্যে, চীন তার বন্ধুরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পাঁচলাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে। চীন তাদের ভ্যাকসিন উৎপাদন সক্ষমতাকে " সফট পাওয়ার " হিসাবে ব্যবহার করতে চাইছে। তবে, চীন উৎপাদিত ভ্যাকসিনের তথ্য স্বল্পতার কারণে নেতিবাচক অনেক ধারণা তৈরি হয়েছে এই ভ্যাকসিন নিয়ে। এভাবে,ভ্যাকসিন কূটনীতিকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে চীন- ভারতের ভৌগোলিক রাজনীতি। ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ, ভ্যাকসিন কূটনীতি চলমান থাকবে যতক্ষণ না বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়

তবে, আশা থাকবে বিশ্বের শক্তিধর বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলো নিজেদের পাশাপাশি দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোর জন্যেও ভ্যাকসিন প্রদান প্রক্রিয়া ভ্যাকসিন প্রাপ্তি সুনিশ্চিত করতে বিভিন্নভাবে সহায়তা করবে। নতুবা, করোনার মত মহামারি মোকাবিলা কষ্টকর হবে

লেখকঃ

মোঃ হাসান তারেক,

প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,

ডক্টর মালিকা কলেজ, ঢাকা

 

 

ব্লগার Md. Hasan Tareq এর অন্যান্য পোস্টঃ
আপনার পছন্দের তালিকায় আরও থাকতে পারেঃ
0 মন্তব্য
আপনার মতামত দিন
বাংলা বর্ণমালার পঞ্চমতম বর্ণ কোনটিঃ
Hit enter to search or ESC to close
হ্যালো, আমার নাম

Md. Hasan Tareq