দিনাজপুরনিউজ২৪ ডটকমের ব্লগসাইটে আপনাকে স্বাগতম!

প্রকাশঃ ২১ জুলাই, ২০১৯

রিফাত হত্যা মামলায় মিন্নিই কি ফেভারিট? না-কি মূল হোতাদের বাঁচানো অপচেষ্টা?

গত কয়েক দিন থেকে বরগুনায় রিফাত হত্যা নিয়ে চলছে নানানরকম জল্পনা- কল্পনা। শেষ পর্যন্ত গ্রেপতার হলো এই মামলার প্রধান সাক্ষী রিফাতের স্ত্রী মিন্নি। তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে ২ দিন পরেই শক্রবার বন্ধের দিনে আদালতে তুলে। সেখানে মিন্নি ১৬৪ ধারাই জবান বন্দিতে স্বীকার করেছে সে তার স্বামী রিফাত হত্যার সাথে জড়িত। তাই যদি হয় নিঃসন্দেহে মিন্নি অপরাধী- এ জন্য তার উপযুক্ত শাস্তি হোক এটা একটি পাগলের চাওয়া।

এখানে কিছু প্রশ্ন নানান ভাবে সারা বাংলাদেশের  কোমল মতি মানুষের বিবেক কে ভাবিয়ে তুলছে। রিফাতকে যারা যে কারনে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে খুন করুক না কেন- তাদের সকলের দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিৎ। আমাদের বাংলাদেশে শুধু নয় পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই অপরাধীদের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ আসামীকে গ্রেপতার করতে সক্ষম হয়েছে   আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। ধন্যবাদ সেই সকল গর্বিত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। এই নৃশংস গঠনার প্রধান আসামী ছিলেন নয়ন বন্ড। তাকে ধরতে গিয়ে নাকি শুরু হয়েছিলো বন্ধুক যুদ্ধ- সেই বন্ধুক যুদ্ধে পুলিশ তাদের আত্বরক্ষার্থে গুলি করে নয়ন বন্ডকে। আর নয়ন বন্ড স্পটেই নিহত হন। সেই দিন বরগুনায় নয়ন বন্ডের মৃতদেহ দেখার জন্য হাজার হাজার লোকের সমাগম হয়- এমন কি সেখানে মিষ্টি মুখ করায় একে অপরকে তার মতো একজন খারাপ লোকের হাত থেকে রেহায় পাওয়ার জন্য।
নয়ন বন্ড বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন একের পর এক আসামী গ্রেপতার করা শুরু করে। যাদের গ্রেপতার করা হয়েছে তাদের অবশ্য ভাগ্যটা একটু হলেও ভালো- কারন তাদের হতে হয়নি নয়ন বন্ডের মতো তথা কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহত। এক পর্যায়ে নানা নাটকীয়তার পরে গ্রেপতার হয় রিফাতের স্ত্রী মিন্নি। আর এই মিন্নিই এখন রিফাত হত্যা মামলার ফেভারিট।
নয়ন বন্ড তথাকথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার ১ দিনে পরে তার মা মিডিয়ার সাক্ষাতকারে বলেছিলেন আমার ছেলে খারাপ ছিলো। তার ঘরে প্রায় প্রতিদিন এমপি পুত্র, পুলিশের লোক, মিন্নি এবং এই মামলায় ধৃত আসামীগন সহ আরো অনেকেই আসতো। তারা ঘরের ভিতরে কি করতো তা নয়ন বন্ডের মা পরিস্কার বুঝতে পারতেন না- তবে একটা কিছু করে তা অনুমান করতে পারতেন। পরে তিনি জানতে পারেন সেখানে ইয়াবা সেবন থেকে শুরু করে সব ধরনের অশ্লীল কাজ তারা করতেন। নয়ন বন্ডের মা শত চেষ্টা করেও ছেলেকে ফেরাতে পারেননি। আর ফেরাতে না পারাটাই স্বাভাবিক- কারন নয়ন বন্ডের পেছনে ছিলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনি শক্তি।
প্রতিদিন নতুন নতুন নাটকীয় ঘটনা এখন মানুষের মনে প্রশ্নের সৃষ্টি করছে। মানুষ ভাবছে তার মায়ের দেওয়া সাক্ষাতকারের কথাগুলি যদি সত্যিই হয় তাহলে নয়ন বন্ড জীবিত ধরা পড়লে কেঁচো খুরতে সাপ বেরিয়ে আসতো। ফেঁসে যেতো হয়তো বড় বড় রাঘববোয়ালরা। আর সেই রাঘববোয়ালরা ধোয়া তুলশির পাতা সাজতেই কি নয়ন বন্ডের এই অবস্থা- প্রশ্ন জনমনে?
নয়ন বন্ড সহ যারা এই অপকর্মের সাথে  জড়িত তাদের শাস্তি হোক এটা সবার কামনা। তবে যারা এদের তৈরী করেছে এবং তাদের দিয়ে নানা অপকর্ম করিয়েছে তাদেরকে কেন আড়াল করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। নাকি যারা মূলহোতা তারা এমপি পুত্র নাকি ক্ষমতাবান তাই? মিন্নি যদি প্রধান সাক্ষী হয়ে আসামী হতে পারে তাহলে কেন ০০৭ এর পৃষ্টপোষক এবং তথাকথিত আরো কিছু লোকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না প্রশ্ন সকলের। 

শেয়ার করুনঃ
ব্লগার MD.ZIAUR RAHMAN এর অন্যান্য পোস্টঃ
আপনার পছন্দের তালিকায় আরও থাকতে পারেঃ
0 মন্তব্য
আপনার মতামত দিন
বাংলা বর্ণমালার প্রথম বর্ণ কোনটিঃ
Hit enter to search or ESC to close
হ্যালো, আমার নাম

MD.ZIAUR RAHMAN